জেলের জালে ধরা পড়ল ২৯ কেজির ইয়েলোফিন টুনা

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির একটি ইয়েলোফিন টুনা মাছ। মাছটির ওজন ২৮ কেজি ৯০০ গ্রাম। স্থানীয় জেলেদের কাছে এটি ‘হলুদ পাখনা টুনা’ নামে পরিচিত। এটি পায়রা বন্দর সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে এফবি সজীব ট্রলারের জেলে জালে ধরা পড়ে।

শুক্রবার দুপুরের দিকে অন্যান্য মাছের সঙ্গে এই মাছটি মৎস্য বন্দর আলীপুরের মেসার্স মনি ফিশ আড়তে নিয়ে আসলে নিলামের মাধ্যমে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে ৪০ হাজার ৪৬০ টাকায় মাছটি কিনে নেন স্থানীয় এক মৎস্য ব্যবসায়ী।

এ অঞ্চলে এমন মাছ খুবই কম ধরা পড়ে। তবে এই মাছটি অত্যন্ত সুস্বাদু ও দামি বলে জানান মৎস গবেষকরা।

আড়ৎ সূত্রে জানা গেছে, বিরল প্রজাতির ইয়েলোফিন টুনা মাছটি বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। ভালো দামে বিক্রির জন্য এটিকে ঢাকার বাজারে পাঠাবেন ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন।

এফবি সজীব ট্রলারের জেলে জীবন মাঝি বলেন, গত দুই দিন আগে পায়রা বন্দর সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে তাদের জালে অন্যান্য মাছের সঙ্গে এই মাছটি ধরা পড়ে। এ ধরনের মাছ সচরাচর ধরা পড়ে না। তবে মাছটির ভাল দাম পেয়ে খুশি তারা।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ওয়ার্ল্ডফিশ-এর ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ইয়েলোফিন টুনা (Thunnus albacares) একটি বৃহৎ আকারের, উচ্চমাত্রায় পরিযায়ী সামুদ্রিক পেলাজিক মাছ। এটি বিশ্বের উষ্ণ ও উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় সমুদ্রে বিস্তৃতভাবে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে প্রধানত বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্র, বিশেষ করে দেশের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল (EEZ) ও সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড এলাকায় এ মাছের বিচরণ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ মাছ বিশ্ববাজারে অত্যন্ত মূল্যবান। তাজা, হিমায়িত, ক্যানজাত, সাশিমি ও সুশির কাঁচামাল হিসেবে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি এটি উচ্চমানের প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন-ডি, বি-কমপ্লেক্স, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক ও আয়রনের সমৃদ্ধ উৎস। তবে অতিরিক্ত আহরণ রোধ এবং টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এ মূল্যবান সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ইয়েলোফিন টুনা বিশ্বের ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় মহাসাগরের গভীর জলে বসবাসকারী একটি দ্রুতগতির মাছ। পূর্ণবয়স্ক মাছের দৈর্ঘ্য প্রায় ২ দশমিক ৪ মিটার এবং ওজন ২০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণত গভীর সমুদ্রে বিচরণ করলেও অনুকূল পরিবেশে মাঝে মধ্যে উপকূলের কাছাকাছিও চলে আসে। ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ কিলোমিটার বেগে সাঁতার কাটতে সক্ষম এ মাছ বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগামী সামুদ্রিক মাছের মধ্যে একটি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে স্বেচ্ছায় অথবা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক

» সংসদের চেয়ে রাজপথকে প্রাধান্য গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়: তথ্যমন্ত্রী

» মেট্রো স্টেশনে ‘বোমা আতঙ্ক’, শেষে মিলল জর্দার কৌটা-পান

» হবিগঞ্জে হামলায় আহত আলিফকে দেখতে হাসপাতালে মামুনুল হক

» চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্রীড়া শিক্ষায় মার্শাল আর্ট অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

» আন্ডারওয়্যারে কোটি টাকার ক্যাপসুলসদৃশ স্বর্ণ, শাহ আমানতে ভারতীয় যাত্রী আটক

» জেলের জালে ধরা পড়ল ২৯ কেজির ইয়েলোফিন টুনা

» রাষ্ট্রায়ত্ত বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : প্রতিমন্ত্রী

» ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান বিশ্বনাথ শর্মা আর নেই

» রাজবাড়ীতে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে র‌্যালি

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

জেলের জালে ধরা পড়ল ২৯ কেজির ইয়েলোফিন টুনা

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির একটি ইয়েলোফিন টুনা মাছ। মাছটির ওজন ২৮ কেজি ৯০০ গ্রাম। স্থানীয় জেলেদের কাছে এটি ‘হলুদ পাখনা টুনা’ নামে পরিচিত। এটি পায়রা বন্দর সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে এফবি সজীব ট্রলারের জেলে জালে ধরা পড়ে।

শুক্রবার দুপুরের দিকে অন্যান্য মাছের সঙ্গে এই মাছটি মৎস্য বন্দর আলীপুরের মেসার্স মনি ফিশ আড়তে নিয়ে আসলে নিলামের মাধ্যমে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে ৪০ হাজার ৪৬০ টাকায় মাছটি কিনে নেন স্থানীয় এক মৎস্য ব্যবসায়ী।

এ অঞ্চলে এমন মাছ খুবই কম ধরা পড়ে। তবে এই মাছটি অত্যন্ত সুস্বাদু ও দামি বলে জানান মৎস গবেষকরা।

আড়ৎ সূত্রে জানা গেছে, বিরল প্রজাতির ইয়েলোফিন টুনা মাছটি বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। ভালো দামে বিক্রির জন্য এটিকে ঢাকার বাজারে পাঠাবেন ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন।

এফবি সজীব ট্রলারের জেলে জীবন মাঝি বলেন, গত দুই দিন আগে পায়রা বন্দর সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে তাদের জালে অন্যান্য মাছের সঙ্গে এই মাছটি ধরা পড়ে। এ ধরনের মাছ সচরাচর ধরা পড়ে না। তবে মাছটির ভাল দাম পেয়ে খুশি তারা।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ওয়ার্ল্ডফিশ-এর ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ইয়েলোফিন টুনা (Thunnus albacares) একটি বৃহৎ আকারের, উচ্চমাত্রায় পরিযায়ী সামুদ্রিক পেলাজিক মাছ। এটি বিশ্বের উষ্ণ ও উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় সমুদ্রে বিস্তৃতভাবে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে প্রধানত বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্র, বিশেষ করে দেশের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল (EEZ) ও সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড এলাকায় এ মাছের বিচরণ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ মাছ বিশ্ববাজারে অত্যন্ত মূল্যবান। তাজা, হিমায়িত, ক্যানজাত, সাশিমি ও সুশির কাঁচামাল হিসেবে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি এটি উচ্চমানের প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন-ডি, বি-কমপ্লেক্স, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক ও আয়রনের সমৃদ্ধ উৎস। তবে অতিরিক্ত আহরণ রোধ এবং টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এ মূল্যবান সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ইয়েলোফিন টুনা বিশ্বের ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় মহাসাগরের গভীর জলে বসবাসকারী একটি দ্রুতগতির মাছ। পূর্ণবয়স্ক মাছের দৈর্ঘ্য প্রায় ২ দশমিক ৪ মিটার এবং ওজন ২০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণত গভীর সমুদ্রে বিচরণ করলেও অনুকূল পরিবেশে মাঝে মধ্যে উপকূলের কাছাকাছিও চলে আসে। ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ কিলোমিটার বেগে সাঁতার কাটতে সক্ষম এ মাছ বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগামী সামুদ্রিক মাছের মধ্যে একটি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com